বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা:
সত্য প্রকাশে অপ্রতিরোধ্য দৈনিক সময়ের কণ্ঠ ডটকমে আপনাকে স্বাগতম  

সাজানো মামলা তুলে নিতে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট টাইম : রবিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২২, ৮:১০ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীর চারঘাট থানা পুলিশের রহস্যময়ী ভূমিকায় নিরীহ মানুষের নামে মামলা হয়রানির প্রতিবাদে রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

গত শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে নিজের উপর ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে কথা বলেন চারঘাট উপজেলার বড়বড়িয়া গ্রামের আসরাফ আলীর স্ত্রী সুফিয়া বেগম।

তিনি বলেছেন, গত ২৩ অক্টোবর গভীর রাতে চারঘাট থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক সোহাইলসহ কিছু পুলিশ সদস্য আমার বসত বাড়িতে গিয়ে দরজা জানালার উপর শব্দ করে আঘাত করতে থাকেন। তাদের এমন কাণ্ডে আমরা দরজা খুলে শব্দ করার কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন আমরা আপনাদের ডেকেছি কেউ বাহিরে না আসার কারণে এমনভাবে ডেকেছি।

তিনি আরও বলেন, আমি ও আমার স্বামী আশরাফ বাহিরে আসা মাত্রই পুলিশ আমাদের টানা হেঁচড়া শুরু করেন। তখন প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন- থানায় যেতে হবে। সুফিয়া বেগমকে টেনে গাড়িতে উঠাতে গেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মতিউর রহমান পুলিশকে বলেন- কোনো মহিলা পুলিশ সদস্য ছাড়া তারা কিভাবে একজন মহিলা মানুষকে গাড়িতে নিচ্ছেন। ইউপি সদস্যের এমন প্রশ্নের পরে এসআই সোহাইল ইউনিয়ন পরিষদের অপর ইউপি সদস্যকে ডেকে একজন মহিলা গ্রাম পুলিশকে নিয়ে আসতে বলেন।

স্থানীয়রা জানান- মহিলা গ্রাম পুলিশ এসে সুফিয়া বেগমকে পুলিশের গাড়িতে তুলে চারঘাট থানায় নিয়ে যান। রাতে স্বামী-স্ত্রীকে থানায় নিয়ে গেলেও এর কারণ জানেন না তারা। পরদিন সকালে তারা থানা হাজত থেকে জানতে পারেন তাদের নামে নুরুন্নাহার নামে একজন মহিলা আমগাছ কাটার অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এরপর ২৪ তারিখ সকালে তাদেরকে কোর্টে প্রেরণ করলে আদালত সুফিয়া বেগমের জামিন মঞ্জুর করেন। আর পুলিশের রহস্যময়ী প্রতিবেদনের কারণে আসরাফ আলীকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। পরের দিন সুফিয়া বেগম জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়িতে আসলে গ্রামবাসীসহ চারজন ইউপি সদস্য একত্রিত হয়ে ঘটনা জানার চেষ্টা করেন।

ইউপি সদস্যরা গণমাধ্যম কর্মীদের জানান- আমগাছ কাটার যে অভিযোগ উঠেছে সেটির সাথে আসরাফ পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই। উল্টো এই রহস্যময়ী মামলার বাদী নুরুন্নাহারের বিরুদ্ধে তারা অভিযোগ তুলে বলেন- নুরুন্নার ও তার ছেলে এই পরিবারকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। ক্ষমতা আর অর্থ দিয়ে তারা পুলিশের সাথে হাত মিলিয়ে এই পরিবারকে হয়রানি করতে বসেছে। এই রহস্যময়ী মামলার সাক্ষীদের রয়েছে নানা অভিযোগ থানা পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়া যেই তিনজন ব্যক্তিকে সাক্ষী করে মামলা রেকর্ড করেছেন তাদের তিনজন জানে না তাদের কোন মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সেই সাক্ষীগণ উপস্থিত হয়ে বলেন- কেউ প্রতিহিংসা মূলক আমাদের সাক্ষী করেছেন। কোনো পুলিশ তাদের কিছু জিজ্ঞাসা করেছে কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন- কোনো পুলিশের সাথে তাদের কথা হয়নি। এ সময় তারাও এই মামলার বাদী নুরুন্নাহারের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান।

মামলার বাদী নুরুন্নাহারের ভাইয়ের ছেলে গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন- তার ফুপু একজন ভয়ংকর প্রতীকার মানুষ। এই মামলা একটি চক্রান্ত বলে দাবি করেন তিনি। হঠাৎ মামলা সাক্ষীদের সাথে কোনো প্রকার কথা না বলে এবং তদন্ত ছাড়া নিরীহ মানুষদের গ্রেফতারকৃত মহিলাকে টেনে হিঁচড়ে সম্মান হানী করার বিষয় নিয়ে ২৯ অক্টোবর রাজশাহীর পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সুফিয়া বেগম।

সেই সাথে ভুয়া সাক্ষী তৈরি করে কেন তাদের হয়রানি করা হলো সেটির তদন্ত চেয়ে রাজশাহী রেঞ্জের ডি আই জির নিকট লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। মামলার সাক্ষীগণ এরই মাঝে এফিডেভিড করে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে আদালতে লিখিত দিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো সংবাদ.....
এক ক্লিকে বিভাগের খবর