মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ০২:১০ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা:
সত্য প্রকাশে অপ্রতিরোধ্য দৈনিক সময়ের কণ্ঠ ডটকমে আপনাকে স্বাগতম  

কুষ্টিয়ায় ফসলের মাঠে কৃষকের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২২ জুন, ২০২১, ১২:৩৯ অপরাহ্ন

কয়েকদিনের টানা ভারি বৃষ্টিতে পানি জমেছে মাঠে। পানি নিষ্কাশনের পথে বাঁধ দিয়ে চলছে প্রভাবশালীর মাছচাষ। এতে ৩০ বিঘা রোপা আমন ধানসহ প্লাবিত প্রায় তিনশো বিঘা কৃষি জমি।

জলাবদ্ধতার এমন সমস্যায় ভুগছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের গোপালপুর মৌজার কৃষকেরা। ফসলসহ অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসী ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সদকী ইউনিয়নের গোপালপুর মৌজায় কয়েকশত কৃষকের প্রায় তিনশো বিঘা জমি। সেখানে বছরের দুইবার ধানের চাষ করে কৃষকেরা। কেউ আবার পাটের চাষও করেন। প্রতিবছরই বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয় মাঠ। তবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়না মাঠে।

কিন্তু পানি নিষ্কাশনের পথে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে দুই ভাই। তারা হলেন ইউনিয়নের সদকী দক্ষিণপাড়ার মৃত সৈয়দ আলী মণ্ডলের ছেলে বিল্লাল মণ্ডল (৬৫) ও আমজাদ আলী মণ্ডল (৬০)।

বাঁধে পানি প্রবাহে বাঁধা পাওয়ায় জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ৩০ বিঘা জমির রোপা আমনসহ প্রায় তিনশো বিঘা জমি প্লাবিত হয়েছে। এতে কৃষকদের ফসলসহ ব্যবহৃত বীজ, সার ও জমি ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

কৃষকেরা আরো জানায়, বাঁধ দিয়ে মাছচাষ করা দুই ভাই প্রভাবশালী। কেউকিছু বললে মারধর করে। গেলবছর থেকে তাঁরা বাঁধ দিয়ে মাছচাষ করছে। এরআগে কোনদিন জমিতে পানি জমেনি।

কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতার এমন সমস্যা গত রোববার (২০ জুন) দুপুরে জানানো হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। লিখিত জানিয়েও কোন ফল পাননি তাঁরা। ফলে গত সোমবার (২১ জুন) দুপুরে প্লাবিত জমির মাঝা সমান পানিতে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেছেন কৃষকেরা। মানববন্ধনে গোপালপুর মৌজার অর্ধ শতাধিক কৃষক অংশ নেন।

এবিষয়ে গোপালপুর মৌজার মৃত শ্রী নরেন্দ্র কুমার বিশ্বাসের কৃষক ছেলে শ্রী কৃষ্ণ কুমার বিশ্বাস বলেন, আমার এই মাঠে এগারো বিঘা জমি আছে। জমিতে প্রতি বছর দুইবার ধানের চাষ করি। এবার একবার ধান ঘরে তুলেছি। আবারো চারা রোপনের জন্য একবিঘা জমিতে বীজ বুনেছি। কিন্তু পানি জমে বীজ ও সার নষ্ট হয়েছে। বাকী জমিতে ধানের চারা রোপন করতে পারছিনা।

কৃষক মনিরুজ্জামান বলেন, ১৩ বিঘা জমিতে চাষ আমার। এবার ইতিমধ্যে চারবিঘা জমিতে চারা রোপন করেছি। আরো রোপন করব। কিন্তু পানিতে সব ডুবে গেছে। পানি বের হওয়ায় রাস্তায় গেল বছর বিল্লাল মন্ডল ও আমজাদ মন্ডল বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে। ফলে পানি বেঁধে জমি ও ফসল তলিয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, যদি জমি চাষাবাদ করতে না পারি। তাহলে বউ ছেলে পেলে নিয় না খেয়ে মারা যাব। সুতরাং পানি বের করার ব্যবস্থা করা হোক।

একই মৌজার কৃষকের ছেলে জাহিদ হোসেন। তার বাবার তিনবিঘা জমি আছে সেখানে। তিনি বলেন, আমাদের তিন বিঘা জমিতে ধানের চারা রোপন করেছি। দোকান থেকে কিনে সার দিয়েছে। সব পানিতে ডুবে গেছে। কৃষিবান্ধব সরকারের কাছে আকুল আবেদন, যেন পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করা হয়।

কৃষক মতিয়ার রহমান মন্ডলের ছেলে নোমান রহমান বলেন, আমাদেরও তিন বিঘা আছে গোপালপুর মৌজায়। পুরোমাঠ এখন পানিতে থৈথৈ। পানি বের হওয়ার একটা সরকারি কালভার্ট আছে। সেখান দিয়ে পানি বের হচ্ছে। কিন্তু আমজাদ মন্ডল সরকারি কালভার্টের চেয়েও উচু করে বাঁধ দেওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক একজন কৃষক বলেন, এখানে আমার দুইটি ব্লক আছে। সেখানে ইতিমধ্যে ৫০ বিঘা জমিতে ধান রোপন করা হয়েছে। আমার নিজেরও এগারো বিঘা জমি আছে। কিন্তু সব পানি প্লাবিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আগে গোপালপুর মৌজার পানি সরকারি কালভার্ট হয়ে দিঘিরপাড়া খাল দিয়ে গড়াই নদীতে প্রবাহ হত। কিন্তু এবার প্রভাবশালীদের বাঁধে পানি আটকে গেছে। কথা বললেই খুন খারাপির হুমকি দেয়।

পানি প্রবাহের পথে বাঁধার বিষয়ে অভিযুক্ত দুই ভাই বিল্লাল মন্ডল ও আমজাদ আলী মন্ডল বলেন, গেল বছর থেকে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছি। কিন্তু পানি বের হতে কোন সমস্যা নেই। তাঁরা আরো বলেন, এইমাঠে আমাদেরও জমি আছে। এক ফসল হয়। প্রতিবছরই পানি জমে থাকে।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীবুল ইসলাম খান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে আহবায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির বাঁকী দুজন হলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও সদকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা দেবাশীষ কুমার দাস বলেন, তদন্ত কমিটির সদস্য হওয়ার বিষয় জানতে পেরেছি। তবে কমিটির আহবায়কের কোন নির্দেশনা পাইনি।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও তদন্ত কমিটির আহবায়ক তামান্না তাসনীম বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরেজমিন দেখে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে।

এবিষয়ে জানতে সদকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদকে বারবার ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ.....
এক ক্লিকে বিভাগের খবর